আলোকচিত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

3968
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

মোল্লাহ মোহাম্মদ সাঈদ:

ট্রেনের ঝকঝক শব্দ কিংবা পাখির কিচিরমিচিরে সকালে ঘুম ভাঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিশ হাজাররেও বেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর। ক্লাসের ফাঁকে দুপুরের অনুভূতিতে উন্মাতাল মাদকতা এনে দেয় ক্যাম্পাস আড্ডার গান। অবিরাম গান ও চায়ের কাপের আড্ডায় নিমিষেই বিকেল বিলীন হয় টুকিটাকি,সাগর ক্যান্টিন, এনামুলের দোকান, নাসিরের দোকান, লিটনের দোকান কিংবা হলের সামনের কোন স্টলে। এরপর চারিদিক সুনসান করে নামে রজনী।

রাত সবসময়ই রহস্যময়। স্বাভাবিকভাবেই রহস্যের প্রতিই মানবমনের কৌতুহল। ক্যাম্পাসজীবনে স্মৃতি তৈরির জন্যই বোধহয় রাতের সৃষ্টি। আঁধারে প্যারিস রোডে দলবেঁধে গান না করলে তো ক্যাম্পাস জীবনই অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। সন্ধ্যারাতে দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের পাশে লেকের পাড়েও বসে প্রেমিক-প্রেমিকার মেলা। স্টেশনবাজার প্লাটফর্মে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা চলে বন্ধুবান্ধব,সিনিয়র-জুনিয়রদের। রাজনীতি, সাহিত্য,বিজ্ঞান,কলাসহ আরো অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়। মজার বিষয় হলো এই আড্ডার ফাঁকেই জন্ম নেয় বিভিন্ন কর্মসূচি, ছাত্র-আন্দোলনের।

স্নিগতার আলো ছড়ানো জ্যোৎস্নারাত ক্যাম্পাসজীবনে একটু বেশিই তাৎপর্যমন্ডিত, জীবনকে নাড়া দেয়। আবার ভয়ংকর অমাবস্যা রাতেও এই ক্যাম্পাসের ছাত্ররা হয়ে ওঠে দুঃসাহসী। তাই জ্যোৎস্না কিংবা অমাবস্যাতেও পশ্চিম পাড়ায় কখনো সন্ধ্যারাত আবার কখনো মাঝরাতেও গান,হৈ-হৈল্লোড় কিংবা বান্ধবী বা কারও প্রেমিকার নাম ধরে অসুরেলো গলায় চিল্লানো স্মৃতিতে অম্লান হয়ে রয়। যুগ-যুগ পরেও তা স্মরণ হলে খুশিতে আনমনে হয়ত হেসে ওঠবে মন। কখনো মাঝরাতে ক্ষুধার দোহাই দিয়ে বন্ধুসহ বিনোদপুর, কাজলা বা তালাইমারিতে যাওয়া। যা ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতির থলেতে অভিজ্ঞতা আর আনন্দই শুধু যোগ করে।

প্রাচ্যের কেমব্রিজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছয়টি ঋতুতে ভিন্ন-ভিন্ন রূপ পরিগ্রহণ করে। গ্রীষ্মের আকাশ চাঁদোয়া টানিয়ে নিঃসীম নীলের আবরণে ঢেকে রাখে ৭৫১ একর জমিন। বর্ষার বৃষ্টি আসে সবচেয়ে রোমান্টিকতা নিয়ে। টুকিটাকি,পরিবহণ মার্কেট, কিংবা হবিবুর, সোহরাওয়ার্দী বা রহমুতুন্নেসার পুকুরে বৃষ্টি ধারার শব্দ ক্ষণিক মনে হয় নদীর কুলধ্বনি আবার ক্ষণিক মোহ তৈরি করে কেয়া পাতার মর্মর শব্দের। বৃষ্টি ফোঁটার শব্দ আর হাওয়ার স্বর মিলে তৈরি করে এক মায়াঞ্জন। এমন দিনে হৃদয় যেন সত্যিই কারও নিবিড় সান্নিধ্য চায়।

শরতের স্বচ্ছ আকাশের বুকে ভেসে বেড়ায় সফেদ মেঘের ভেলা, নিচে মৃদুমন্দ বাতাস। শারদ রাতের প্যারিস রোড যুগ-যুগ ধরে অনুভূতির জগতে ঝড় তুলবে। টুকিটাকি,বিজ্ঞানভবন,ইবলিশ চত্বর, জুবেরী ভবন, চারুকলায় কুয়াশার আবরণে মুখ ঢেকে লজ্জাবতী নারীর বেশে আগমন ঘটে হেমন্তের। যা হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়।

শীতের সকালের প্যারিস অকল্পনীয়,অপরূপ নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে পরিবেষ্টিত হয়। মনে হয় পুরো ক্যাম্পাস যেন তখন দার্জিলিং। এমন দিনে বিছানা-লেপ ছেড়ে ক্লাসে আসার জন্য নিজের সাথেই যুদ্ধ করতে হয়। হলগেট থেকে একটু দূরেই আর কিছু দেখা যায় না।

বসন্তের রাবি গন্ধবিধুর। এ হাওয়া মনে মাদকতার জন্ম দেয়। রাবির বসন্ত প্রকৃতি যেন সবুজের প্রতিশব্দ। চারিদিক সবুজ-সজীবতায় প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠে। ক্যাম্পাস যেন সবুজ শাড়ী পড়ে যৌবনের পূর্ণতা লাভ করে।

জারুল, কৃষ্ণচূড়া, গগণশিরিশ,মেহগনি আরও হরেক গাছে শোভিত মতিহারের এই ক্যাম্পাস। প্যারিস রোডের দুই পাশের গগণশিরিশ যেন ঈশ্বরের নির্দেশে পরস্পরকে আলিঙ্গন করে আছে। ছায়া দিয়ে যাচ্ছে পথিককে। পশ্চিম পাড়ার জারুল বৃক্ষের সৌন্দর্য বর্ণনা করা সম্ভব নয় তা শুধু অনুভব করাই যায়।

ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো বসন্ত ঋতুতে সৌন্দর্যের যে পসরা সৃষ্টি করে ব্যর্থ প্রেমিকের মনেও তা প্রণয়ের তুফান বইয়ে দেয় নিশ্চিত। গোটা ক্যাম্পাসকেই মেহগনি তার সবুজ পাতা আর ফুল দিয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত করে রেখেছে। রক্তকরবী, কাঠগোলাপ, জারুল, পিটুনিয়া, ক্যালেন্ডুলা,সোনালু, গোলাপ, গাঁদা, কদম, কলাবতী, শিমুল, ঘাসফুলসহ প্রভৃতি ফুল এবং মৌমাছি, প্রজাপতি,হরেকরকম অতিথি পাখি রাবির রূপে রঙ ও বৈচিত্র‍্য যোগ করে।

গ্রীষ্মে আম,লিচুর উৎসব চলে ক্যাম্পাসের বাগানগুলোতে। এ নিয়ে সবারই রয়েছে মজার স্মৃতি। এমনকি মাঝরাতেও বন্ধুবান্ধবমিলে আম বাগানে ঢিল ছুড়াছুড়ি করে যেন সবাই শৈশবেই ফিরে যেতে চায়। শহীদ শামসুজ্জোহার স্মৃতিধন্য মতিহারের প্রিয় সবুজ চত্বর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ইতিহাস-ঐতিহ্যর এক নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ।

প্রকৃতির রূপ-রং এর সাথে সাথে এখানে রয়েছে অনেক মনুমেন্ট ও স্থাপনা। উল্লেখযোগ্য জাতির বিবেক শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে বধ্যভূমির গণকবর। সাহস ও প্রেরণার সাবাস বাংলা, গৌরবময় সুবর্ণ জয়ন্তী টাওয়ার, সুবিশাল ও অপরূপ শহীদ মিনার, শহীদ শামসুজ্জোহার স্মৃতিতে নির্মিত স্ফুলিঙ্গ, শহীদ হবিবুর রহমানের স্মরণে বিদ্যার্ঘ। ২টি প্রশাসনিক ভবন, সিনেট ভবন, ডিনস্ কমপ্লেক্স, ১২টি একাডেমিক ভবন, ১৭টি আবাসিক হল, একটি ডরমেটরী, শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়াম, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষার্থে শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও মন্দির, শহীদ মিনার, সুবিশাল স্টেডিয়াম নিয়ে ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত উত্তর জনপদের এই বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষা ও সহায়িকা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

চলুন দেখে আসি আলোকচিত্রে প্রিয় মতিহার ক্যাম্পাস-
প্রধান ফটক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সাবাস বাংলাদেশ
সাবাস বাংলায় গাছের সারি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবন
সুবর্ণ জয়ন্তী টাওয়ার
ইস্পাতের কান্না
শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. শামসুজ্জোহার সমাধি
 প্রশাসন ভবন- ১
প্রশাসন ভবন- ২
শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক
বধ্যভূমি
বিদ্যার্ঘ
  স্ফুলিঙ্গ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার
শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা
  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তমঞ্চ
১ মুজিব ৯ মাস ৭ বীরশ্রেষ্ঠ ১ দেশ, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ
কেন্দ্রীয় মসজিদ

কেন্দ্রীয় মন্দির
প্যারিস রোড
  জুবেরী মাঠে সোনালু ফুলের সবুজ পাড়ের হলদে শাড়ী
    পশ্চিম পাড়ায় ফুলের ঢেউ
  চাঁদের হাট
    সবুজ অরণ্যের পথ…
চাঁদের আলোয় আলোয়…প্যারিস রোড
জুবেরী বাগানের বসন্ত
কৃষ্ণচূড়ার রং হৃদয়ে ছড়াক… প্রথম বিজ্ঞান ভবনের সামনে
কাশফুলগুলো সব ছন্নছাড়া… বধ্যভূমির পাশে
 বধ্যভূমি পুকুর
সৌন্দর্য অথবা শুণ্যতা… শীতে শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে
ফসলের মাঠ, বধ্যভূমি
বকের সারি
  লাইব্রেরী রোড
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার
 শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
 কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন
বাস স্টান্ড
স্টেডিয়াম
কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া
আকাশে পাখির ঝাঁক, আমি তো অবাক!
প্রজাপতি মন…
পলাশ ফুল, চারুকলা
বাঁদুড় বৃক্ষ, চারুকলা রোড
  রক্তকরবী
  ফুলের ছড়াছড়ি
কলাবতি
প্রতিবিম্বে পরিবহন
বসন্তের ঝরাপাতা, মিডিয়া চত্বর
রবীন্দ্র কলাভবন
শহীদুল্লাহ কলাভবন
মমতাজ উদ্দীন কলাভবন
সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবন

 

প্রথম বিজ্ঞান ভবন
দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবন
তৃতীয় বিজ্ঞান ভবন
চতুর্থ বিজ্ঞান ভবন
রেললাইন হারানো রূপ

চারুকলা রোড
চারুকলা ভবন
ভালবাসায় বেঁধে রয়…চারুকলা
 আইবিএ ভবন
 ডিনস্ কমপ্লেক্স
কাজলা রোড
বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ
 শেখ রাসেল মডেল স্কুল
ইবলিশ চত্বর পুকুর
আমতলা, মমতাজ উদ্দীন কলাভবনের সামনে
ক্যাফে গ্রীণ ভিউ, রবীন্দ্র ভবনের পাশে
আমতলা পরিবহন মার্কেট
বৃষ্টিস্নাত টুকিটাকি চত্বর

বাদল দিনে সোহরাওয়ার্দী পুকুর

মধুচাঁক, শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে
  সিলসিলার সামনের পুকুরে কচুরিপানা
  কাঠগোলাপ
 কদম
  কাঠবিড়ালী
  জারুল ফুল
  জিমনেশিয়াম
   প্রজাপতি প্রজাপতি পাখনা মেলো.. জিমনেশিয়াম থেকে তোলা
সুইমিংপুল
মেডিকেল সেন্টার
স্টেশন বাজার 
বসন্তের পাতাঝরা ক্যাম্পাস
শীতের প্যারিস রোড
উপাচার্য বাসভবন
মৌমাছি
পশ্চিম পাড়া টিচার্স কোয়ার্টার রোড
জুবেরী ভবন
বসন্তে পশ্চিম পাড়া রাস্তা
মন্নুজান হল
বেগম খালেদা জিয়া হল
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল
রোকেয়া হল
তাপসী রাবেয়া হল
 রহমতুন্নেসা হল
 পিটুনিয়া
ক্যালেন্ডুলা
গোলাপ
মতিহার হল
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল
 বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল

বিনোদপুর গেট থেকে এসএম হল রাস্তা
 শাহ্ মখদুম হল
 সৈয়দ আমির আলী হল

  নবাব আব্দুল লতিফ হল
  স্টেশন বাজার টু বিনোদপুর রোড
  শহীদ শামসুজ্জোহা হল
সোহরাওয়ার্দী হল
মাদার বক্স হল

 শহীদ জিয়াউর রহমান হল

 শহীদ হবিবুর রহমান হল
ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ

মতিহারে সূর্যাস্ত…
জোনাকির আলোতে নিয়ে ম্যাজিক দেখায় অন্ধকার..

 

মতিহারের এই প্রিয় সবুজ গালিচা সৌন্দর্যে লীলা নিকেতন। আবেগ,অনুভূতি আর প্রেমের চেতনায় এ ক্যাম্পাস সৌন্দর্য বিলায় বিমুগ্ধতায়।

ক্যাম্পাসবার্তা ডটকম/এমএমএস/এনআর