রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

522

রাবি প্রতিনিধি:

নানা আয়োজন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে ‘এ শুভলগনে জাগুক গগনে অমৃতবায়ু… : গৌরবের ৬৫ বছর’ শীর্ষক কর্মসূচির শুরুতে শুক্রবার সকাল ৯টায় প্রশাসনভবন চত্বরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান জাতীয় পতাকা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা এবং প্রাধ্যক্ষবৃন্দ নিজ নিজ হলের পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা ও বর্ণিল বেলুন-ফেস্টুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উপাচার্য প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এসময় সেখানে অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর এম এ বারী, সিন্ডিকেট সদস্য, অনুষদ অধিকর্তা, হল প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় সভাপতি, প্রক্টর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপাচার্য একটি নাগকেশর গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।শোভাযাত্রা শেষে সিনেটভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপাচার্য সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র। জাতির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে। জাতির জনকের অন্যতম স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ যেখানে কোনো ভেদাভেদ-বৈষম্য থাকবে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে অন্যতম সারথী।

দুঃখের বিষয় দেশ যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে তখন কোটা আন্দোলনের নামে একদল সুযোগসন্ধানী দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টিতে লিপ্ত হয়েছে। তার সাথে যুক্ত হয়ে কিছু তথাকথিত শিক্ষক আন্দোলনকারীদের উৎসাহিত করছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকেও কলুষিত করছে। উপাচার্য সকলকে এবিষয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

শুরু থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীন শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোর দিশা দিয়েছে। সেই আলোয় আলোকিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দেশবিদেশে গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও গৌরবদীপ্ত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি একনিষ্ঠ আগ্রহ। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে অচিরেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এতদঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপাচার্য তাঁর বক্তৃতায় এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংগঠক মরহুম মাদার বখশ্সহ সংশ্লিষ্ট সকলের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

সমাবেশে উপ-উপাচার্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেখানে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাকে আরো এগিয়ে নিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির সদস্য-সচিব জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন।

ক্যাম্পাসাবার্তা ডটকম/এআর