স্ত্রীকে বাজি রেখে জুয়ায় হার, অতঃপর

780

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের উড়িষ্যায় স্ত্রীকে বাজি রেখে বন্ধুর সঙ্গে জুয়া খেলতে নেমেছিলেন এক জুয়াড়ি। খেলার শর্ত হিসেবে স্ত্রীকে তুলে দেন জয়ী ব্যক্তির হাতে। সেই জয়ী ব্যক্তি পরাজিত জুয়াড়ির স্ত্রীকে ধর্ষণও করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় থানা অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে আর জেলার পুলিশ সুপারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। কিন্তু ততদিনে নির্যাতিতার স্বামী এবং ধর্ষণে অভিযুক্ত – দুজনেই পলাতক।

পুলিশ বলছে, বালেশ্বর জেলার বাসিন্দা এক নারী তাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন যে তার স্বামী জুয়া খেলায় হেরে গিয়ে স্ত্রীকে তুলে দিয়েছিল জুয়াতে জয়ী ব্যক্তির কাছে।

গ্রামের বাইরে নিয়ে গিয়ে সেই ব্যক্তি ধর্ষণও করে ওই নারীকে, এমনটাই অভিযোগ। ভারতীয় আদালতের নির্দেশে নির্যাতিতাদের নাম প্রকাশ অপরাধ। তাই গণমাধ্যম তার নাম প্রকাশ করছে না।

ঐ নির্যাতিতা জানিয়েছেন, ‘সেদিন রাত ১১টা নাগাদ স্বামী বাড়িতে ফেরে। বলে তার সঙ্গে যেতে হবে। অত রাতে কোথায় যেতে হবে, বাচ্চারা ঘুমোচ্ছে- এসব বলেছিলাম আমি। কিন্তু স্বামী শোনে নি। কোনা জবাব না দিয়ে একরকম জোর করেই নিয়ে যায় গ্রামের বাইরে। সেখানে তার এক বন্ধু আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল।’

ঐ নারী বলছিলেন, সেই ব্যক্তিকে স্বামীর বন্ধু হিসাবে তিনি ভাই বলে সম্বোধন করেন তিনি। সেই ব্যক্তি তার হাত ধরে টানছিল। অনেক মিনতি করেছিলেন নির্যাতিতা। শেষে তার স্বামীই ওই ব্যক্তির হাতে জোর করে তুলে দেয়। তারপরে স্বামীর সামনেই তাকে ধর্ষণ করে ওই ব্যক্তি, জানাচ্ছিলেন ওই নির্যাতিতা।

তিনি তখনও জানতেন না যে তাকে বাজি ধরে জুয়া খেলতে বসেছিলেন স্বামী এবং তিনি পরাজিত হওয়ায় তাকে ধর্ষিতা হতে হল। পরের দিন ওই নির্যাতিতার মেয়ে গোটা ঘটনা জানায় তার দাদা অর্থাৎ নির্যাতিতার বাবাকে।

তিনি ওই নারীর শ্বশুরবাড়িতে এসে সবার কাছে ঘটনার সত্যতা জানতে চান। কেউই স্বীকার করেন নি। গ্রামের মাতব্বররাও জানত না বিষয়টি। শেষে মেয়ে আর তার সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তার বাবা।

তারপরে থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন ওই নির্যাতিতা, সঙ্গে তার বাবাও ছিলেন। কিন্তু অভিযোগ না নিয়ে মিটমাট করে নিতে পরামর্শ দেওয়া হয় তাদের।

বালিয়াপুল থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামসাগর পান্ডা অবশ্য অভিযোগ না নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‌‌‘আমি দিন দুয়েক ছুটিতে ছিলাম। ফিরে এসেই ঘটনা জানতে পারি। তারপরেই ঐ নারীর অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়। তাকে মেডিক্যাল টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর তার স্বামী এবং জুয়া খেলায় জয়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

সুত্র: বিবিসি